TPV — the People view
ব্রেকিং
নতুন ব্রেকিং নিউজ লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

কক্সবাজারে অনুমোদনহীন রিসোর্ট গুঁড়িয়ে দিল কর্তৃপক্ষ, মালিকের দাবি ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ।

রিপোর্টার: Admin•Cox's Bazar, Bangladesh•
হালনাগাদ:
কক্সবাজারে অনুমোদনহীন রিসোর্ট গুঁড়িয়ে দিল কর্তৃপক্ষ, মালিকের দাবি ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ।

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযানে উখিয়ার ইনানীতে চারতলা একটি রিসোর্ট ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভবনটিতে প্রায় ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগের দাবি করেছেন মালিক শহিদুল হক।

সোমবার দুপুরে কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে এ অভিযান চালানো হয়। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নেতৃত্বে এতে অংশ নেয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার বাহিনী।

অভিযানের শুরুতে ভবনের নিচতলা ও পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকান ভেঙে ফেলা হয়। পরে কাচের স্থাপনা সরিয়ে মূল ভবনের স্তম্ভগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়।

চারটি নোটিশ দেওয়ার পর অভিযান

কউকের সচিব সানজিদা বেগম জানান, ভবনটি নিজ উদ্যোগে অপসারণের জন্য মালিককে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় কর্তৃপক্ষ ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর ভাষ্য, প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান না মেনেই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

তবে মালিক শহিদুল হকের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়ে ২০১৪ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করেন তিনি। ভবনের নিচতলায় দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুই তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা ছিল। শিগগিরই রিসোর্টটি উদ্বোধনের প্রস্তুতিও চলছিল।

শহিদুল হক আরও দাবি করেন, চারটি নোটিশের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ভবন নির্মাণের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেগুলো বিবেচনায় নিচ্ছে না।

মেরিন ড্রাইভে আড়াই হাজার স্থাপনা

কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে অসংখ্য রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনার অনেকগুলোরই প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই। বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও অবৈধ স্থাপনা সরানো না হওয়ায় যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। মেরিন ড্রাইভের পাশে অনুমোদনহীন স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

কউক চেয়ারম্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক হাজার ৭০০টি ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে নির্মাণে বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্রায় আড়াই হাজার স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ২০০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। কয়েকটি তারকা মানের প্রতিষ্ঠান ছাড়া এসব স্থাপনার অধিকাংশের বৈধ অনুমোদন নেই বলে জানান তিনি।

গত ১৭ অক্টোবর পাটুয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অনুমোদনহীন পর্যটন স্থাপনা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার